অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন ফরম পুরণের নিয়ম | How To Apply Govt. Job In Bangladesh
অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন ফরম পুরণের নিয়ম | How To Apply Govt. Job In Bangladesh
'আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ'
আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো কিভাবে অনলাইনে সরকারি চাকরির আবেদন ফরম পুরণ করতে পারবেন ।
আবেদন ফরমে প্রাথমিক তথ্যপূরণ
১) সঠিকভাবে নিজের নাম লিখতে হবে।
২) লিঙ্গ নির্ধারণ করতে হবে।
৩) বৈবাহিক অবস্থা নির্ধারণ করতে হবে।
৪) জন্ম তারিখ উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট তারিখ অবধি আপনার বয়স কতো তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ফুটে উঠতে
পারে।
৫) বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করতে হবে। স্বামী অথবা স্ত্রী থাকলে তার নামও দিতে হবে।
৬) মোবাইল নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ পুরো আবেদন প্রক্রিয়াতে সেই মোবাইল নম্বর খুবই জরুরী।
৭) জাতীয়তা নির্ধারণ করতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
৮) বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। মনে রাখবেন যে নিয়োগ পেলে সে সংক্রান্ত চিঠি এই ঠিকানাতেই আসবে। তাই অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত ঠিকানা দিতে হবে।
৯) স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ পৌরসভার মেয়র/ ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত জাতীয়তা সনদে উল্লিখিত স্থায়ী ঠিকানা মোতাবেক প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। তবে অবিবাহিত মহিলাগণ আবেদন দাখিলের পরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখিয়ে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবে।
১০) জেলা নির্ধারণ করতে হবে।
১১) নিজের ইমেইল আইডি উল্লেখ করতে হবে।
নিজের নাম, বাবা, মা ও স্বামী / স্ত্রীর নাম পূরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট চাকরির সার্কুলারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। সাধারণত সকল নামসমূহ ইংরেজিতে বড় অক্ষরে লিখতে হয়।
ছবি ও স্বাক্ষর প্রদান
সরকারি চাকরির আবেদন ফরম পূরণ করতে অবশ্যই সদ্য তোলা ছবি ব্যাবহার করা উচিৎ। সদ্য বলতে সাধারণত অনধিক ৩ মাস আগের তোলা ছবি বোঝানো হয়ে থাকে। চাকরি ভেদে ছবির বিভিন্ন রকমের সাইজ ও ফরম্যাট চাইতে পারে। তবে সাধারণত সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, জেপিইজি / জেপিজি ফরম্যাট ও ৬০০ × ৬০০ পিক্সেল রেজুলেশন সম্বলিত ছবি চেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ছবির সাইজ সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট অবধি হতে পারবে। উলেখ্য যে, এখন প্রায় সকল চাকরির আবেদন অনলাইনে হয়ে থাকে। তাই ছবির স্ক্যান করা কপি অথবা সরাসরি সফট / ডিজিটাল কপি রাখতে হবে। ছবিটি অবশ্যই রঙিন হতে হবে এবং কান বা মুখের কোন অংশ ঢাকা থাকা চলবে না। উপরের প্রতিটি নিয়ম মানা অত্যন্ত জরুরী। নিয়ম না মেনে ছবি আপলোড করলে তা ইনফরমাল (Informal) ছবি হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে আবেদন সাথে সাথে বাতিল করা হবে।
স্বাক্ষর এর স্ক্যান কপি রাখা আব্যশক। সাধারণত ৩০০ × ৮০ পিক্সেল ও সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট আকারের ছবি আপলোড করতে হয়। এক্ষেত্রেও ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা ও ছবির ফরম্যাট জেপিইজি / জেপিজি রাখতে হবে।
উপরিউক্ত নিয়ম গুলো মেনে ছবি ও স্বাক্ষর তৈরি করে আবেদনপত্রে আপলোড করতে হবে। আপলোড করার জন্য ছবি ও স্বাক্ষরের স্থানে ' Choose File' অপশন থাকবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ
যেকোনো চাকরিতে আবেদন করতে হলে সেই চাকরির নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা চাই। শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার আবেদন পত্রের সবচেয়ে বেশি মূল্য নির্ধারণ করবে। তাই অত্যন্ত সাবধানতার সাথে নির্ভুল ভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে
হবে।
১) পরীক্ষার লেভেল অনুযায়ী প্রত্যেক পরীক্ষার নাম উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ আপনি কি সাধারণ স্কুল কলেজে পড়েছেন নাকি মাদ্রাসা অথবা কারিগরিতে পড়েছেন তা স্পষ্ট করতে হবে।
২) এস. এস. সি., এইচ. এস. সি. স্নাতক ও স্নাতকোত্তর (যদি থাকে) ডিগ্রি নির্ধারণের পরে স্নাতকে কত বছরের কোর্স করেছেন তা উল্লেখ করতে হবে ।
৩) এস. এস. সি. ও এইচ. এস. সি. পরীক্ষায় বিভাগ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির বিষয় উল্লেখ করতে হবে।
৪) বিভাগ ও বিষয় উল্লেখের পর কত জিপিএ/সিজিপিএ এর মধ্যে কত পেয়েছেন তা উল্লেখ করতে হবে।
৫) অতঃপর পরীক্ষার বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করতে হবে।
৬) কত সালে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ফলাফল ঠিক কত তারিখে প্রকাশিত হয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে।
উল্লেখ্য যে শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করে দেখা হয়। তাই ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোন ভাবেই এখানে অশুদ্ধ তথ্য দেবেন না। দিলে বিনা বিবেচনায় আবেদন বাতিল করা হবে।
কোটা নির্ধারণ
সরকারি চাকরিতে নানা ধরনের কোটা দেওয়া হয়ে থাকে। আপনি যদি কোন কোটার যোগ্য হয়ে থাকেন তাহলে সেই কোটার তথ্য পূরণ করুন। সাধারণত যেই ৪টি কোটা দেওয়া হয়ে থাকেঃ
১) মুক্তিযোদ্ধা কোটা (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি – নাতনিদের জন্য)।
২) উপজাতি কোটা।
৩) প্রতিবন্ধি কোটা।
৪) এতিম কোটা (শুধু এতিম খানায় বসবাস করেছেন এমন ব্যাক্তিদের জন্য)।
এছাড়াও অনেক সরকারি চাকরিতে একই পরীক্ষার সাহায্যে একাধিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি ব্যাংক গুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলে প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম নির্ধারণ করে দিতে হবে।
ফী প্রদান ও প্রমাণ সংগ্রহ
কোন নাম্বারে কত টাকা কিভাবে মেসেজ পাঠিয়ে জমা দিতে হবে সেটা চাকরির সার্কুলারেই সুন্দর করে দেওয়া থাকে।
মোবাইলে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করার সহজ উপায়
ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি-সার্ভার কপি ডাউনলোড
আজকে এ পর্যন্তই পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
এতক্ষন পড়ার জন্য ধন্যবাদ!
এই বিষয়ে অথবা যেকোনো ইনফরমেশন জানার থাকলে অবশই কমেন্ট করে জানাবেন।
তাহলে আমি খুব শীঘ্রই সেই বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করব ।
ইনশাআল্লাহ।

কোন মন্তব্য নেই